জবাবে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এ হামলার ঘটনায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
প্রথমে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের একটি ড্রোন অপারেশন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস এলাকার কাছে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন থেকে হামলাকারী ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা পাঁচটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং ষষ্ঠ ড্রোন উৎক্ষেপণের আগেই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে।
মার্কিন বাহিনীর হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সকালের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা হলে আরো ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে।
কুয়েত জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে দেশটি এ ঘটনাকে ‘গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো সরাসরি সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলো। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি থামেনি। এপ্রিলের শুরুতে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে আলোচনা চলছিল। তবে নতুন হামলার ঘটনায় সে আলোচনা আবার অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের দিন সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার খবরে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছিল, যুদ্ধ বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল আবার শুরু হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন হামলার ঘটনা ঘটে।
জ্বালানি বিশ্লেষক জন ইভানস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হামলা ও পাল্টা হামলা যেন আলোচনার ভাষায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, বাজার এখনো বিশ্বাস করছে শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো সমঝোতা হবে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের টাইর এলাকায় ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। রাজধানী বৈরুতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় তাদের একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।